২০১৩ সাল। কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে দাঁড়ায় ৭ বছরের একটি মেয়ে। যে বাসায় থাকত, সেখানকার ছেলেটি তাকে মারত। তাই পালিয়ে এসেছে। বাবা-মা কে, সে জানে না। জিজ্ঞেস করলে শুনত, ‘আমরা জানি না, তোমারে পাইছি, নিয়া আসছি।’
মেয়েটির নাম জেসমিন আক্তার। সেদিনই বেসরকারি সংস্থা লিডোর উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে খুঁজে পান। ১৩ বছর পর জেসমিন আবার পথে। এবার তিনি লিডোর ‘স্ট্রিট এডুকেটর’, পড়ান পথের শিশুদের।
মাঝের পথটা সহজ ছিল না। পিস হোমে এসে স্কুলে ভর্তি হন, মাঠে নামেন। ২০১৯ সালে পথশিশুদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে লর্ডসে খেলে সেরা বোলারের পুরস্কার পান। যাওয়ার আগে আটকে গিয়েছিল পাসপোর্ট। বাবা-মায়ের নামের ঘর ফাঁকা থাকলে আবেদন এগোয় না। লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ফরহাদ হোসেন তখন আদালতে গিয়ে শিশুদের আইনি অভিভাবকত্ব নেন। এ পর্যন্ত ৩৫ শিশুর পাসপোর্টে অভিভাবকের ঘরে তাঁর নাম বসেছে। তিনি জানান, নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের প্রক্রিয়া এই শিশুদের জন্য এখনও সহজ হয়নি।




